নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ-উখিয়ার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ওসির দীর্ঘ বৈঠক
নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়ার ধারাবাহিক কর্মসূচির পঞ্চম দিবসে প্রতিনিধি দল টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম-এর সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করে। বৈঠকে টেকনাফের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, অপহরণ, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে প্রতিনিধি দল জানতে চায়, বর্তমান বাস্তবতায় টেকনাফকে নিরাপদ রাখতে পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী এবং থানার পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে কী ধরনের পদক্ষেপ ও সহায়তা প্রয়োজন।
জবাবে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, টেকনাফ একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত জনপদ। এখানে প্রশাসনিক ও পুলিশ সদস্যের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় দ্রুত ও কার্যকরভাবে আইন-শৃঙ্খলা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “টেকনাফকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। জনগণ যদি সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে, তাহলে অপরাধ দমন ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অনেক সহজ হয়ে যাবে।”
তিনি আরও জানান, জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক একটি সমন্বিত টিম গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ইমাম, খতিব, সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি এবং শিক্ষিত তরুণরা যুক্ত হয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ টেকনাফ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।
নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়ার প্রতিনিধি দল জানায়, টেকনাফের শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ইতিবাচক ও আইনসম্মত সহযোগিতা তারা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করে, প্রশাসন অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকের একপর্যায়ে প্রতিনিধি দল স্পষ্টভাবে জানায়, টেকনাফের মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায্য দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ, গণমুখী ও সাংবিধানিক আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে চলবে। প্রতিনিধি দল বলেন, “আমরা আশ্বাসের ওপর নয়, কাজের ওপর বিশ্বাস করি। টেকনাফের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলমান থাকবে।”
প্রতিনিধিরা টেকনাফের মানুষের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিসমূহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যথাযথভাবে উপস্থাপন এবং আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “টেকনাফের মানুষের যৌক্তিক দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের জন্য আমি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাব।”
নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়া বিশ্বাস করে, প্রশাসন ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা, তথ্যভিত্তিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই টেকনাফকে অপহরণ, মানবপাচার, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ সীমান্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন