টেকনাফে কালা মিয়ার অবৈধ টাকার প্রভাব বিস্তার; অন্যের জমি ভোগদখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা কালা মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ব্যক্তির পৈতৃক ও ভোগদখলীয় জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন এবং কয়েকটি জমি ইতোমধ্যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন মিরা হোসেন, শামসুল আলম ও মমতাজ উদ্দিন। তাদের দাবি, শতাধিক শতক জমিতে তারা প্রবেশ করতে পারছেন না। ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়েরের পর স্থানীয়ভাবে সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্তরা সেই সিদ্ধান্ত মানেননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, কালা মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এ কারণে অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। অভিযোগে কালা মিয়ার পাশাপাশি তার ছেলে ইউনুস (সাদ্দাম নামে পরিচিত), ইউসুফ, কালা মানিক, মোহাম্মদ মিয়া, আয়ুব আলী, রাহামত আলীসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত মনুর রেখে যাওয়া সম্পত্তিও বর্তমানে কালা মিয়া ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, তারা এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, "ভুক্তভোগী মিরা হোসেন দখলকৃত জমি ফেরত পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পক্ষকে উপস্থিত রেখে সালিশ করা হয়। তবে বিবাদীপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করায় আমরা তাকে আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।"
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, "ইউনিয়ন পরিষদের আইনসম্মত সিদ্ধান্ত অমান্য করা এবং অন্যের জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা—উভয় বিষয়ই গুরুতর। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, "অন্যের জমি অবৈধভাবে ভোগদখলের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে কালা মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি বৈধভাবে জমির ভোগদখলকারী এবং ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় তা তিনি মেনে নেননি।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।###

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন