"জুমআহ" ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের শক্তিশালী নিদর্শন।
"জুমআহ" শুধু একটি নামাজ নয়, বরং এটি মুসলিম মিল্লাতের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের একটি শক্তিশালী নিদর্শন; যেখানে সকল মুসলিম- মতাদর্শ, মতানৈক্য ও ভেদাভেদ ভুলে একই মা'বুদের ইবাদতে শামিল হয়, যা পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করে।
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! জুমআর দিনে সালাতের আহ্বান দেওয়া হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো।” (সূরা আল-জুমআ)
উক্ত আয়াতে জুমআর আহ্বান হলে কাজে ছুটে না গিয়ে মুসল্লিদের একত্র হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যা একতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্বের বার্তা দেয় এবং উম্মাহকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে অনুপ্রাণিত করে।
সাপ্তাহিক এই জামাতে ধনী-গরিব, সাদা-কালো, উঁচু-নিচু—সকল মুসলিম এক কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই ইমামের পেছনে একই সাথে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সবাই এক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে, যা তাদের মধ্যেকার বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং এটি সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ اِخۡوَۃٌ فَاَصۡلِحُوۡا بَیۡنَ اَخَوَیۡكُمۡ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ﴿۱۰﴾
নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপোষ- মীমাংসা করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায় তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে। (সূরা হুজরাত: ১০) -
এই আয়াত, জুমআর জামাতে স্মরণ ও অনুশীলন করা হয়, যা আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে তাগিদ দেয়। বিশেষত জুমআর আগে-পরে মুসল্লিরা একে অপরের খোঁজখবর নেন, সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন, যা সামাজিক বন্ধনকে মজবুত করে।
সুতরাং, জুমআ শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্ব পালন নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে গভীর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব , পারস্পরিক হৃদ্যতা ও সহযোগিতার এক জীবন্ত উদাহরণ।
লেখক : মাওলানা আব্দুর রহমান আরিফী
দাওরায়ে হাদিস, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া। বি.এ অনার্স (বাংলা), কক্সবাজার সরকারি কলেজ।


Social Plugin