নামাজ-রোজা বেশি, তবুও জাহান্নাম! কেন?
নামাজ-রোজা বেশি, তবুও জাহান্নাম! কেন?
মাওলানা আব্দুর রহমান আরিফী
শিক্ষক, সংগঠক,কলামিস্ট
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলল, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! অমুক মহিলা সম্পর্কে জনশ্রুতি আছে যে, সে বেশি বেশি নামাজ পড়ে, রোজা রাখে এবং দান-দক্ষিণায় খুব প্রসিদ্ধ; কিন্তু নিজের মুখ দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়।’
রাসুল ﷺ বললেন, ‘সে দোজখে যাবে।’
আবার বলা হলো, অমুক মহিলা কম নামাজ পড়ে, কম রোজা রাখে এবং অল্প দান-সদকা করে; কিন্তু প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। রাসুল ﷺ বললেন, ‘সে জান্নাতে যাবে।’
(মুসনাদে আহমদ ও বায়হাকী)
হাদিসের শিক্ষা অত্যন্ত গভীর। নফল নামাজ, রোজা ও দান-সদকা আল্লাহর হক; আর প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া মানুষের হক। মানুষের হক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জিহ্বা মানুষের সবচেয়ে বড় মরণাস্ত্র। স্বাভাবিক অস্ত্রের আঘাত ভালো হয়ে যায়; কিন্তু জিহ্বার আঘাত ক্ষতবিক্ষত কোমল অন্তর থেকে কখনো মুছে যায় না।
তাই শুধু বেশি বেশি নফল ইবাদত করাই যথেষ্ট নয়; ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সদাচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার আদায় এবং জিহ্বাকে সংযত রাখা জরুরি।
কারণ, ইবাদত যতই বেশি হোক—মানুষ যদি আপনার কারণে কষ্ট পায়, তবে সেই ইবাদতের সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন