টেকনাফে যুবক হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা ও দুই ছেলেকে আসামি, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
কক্সবাজারের টেকনাফে শফি উল্লাহ (২৫) হত্যা মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তার দুই ছেলেকে আসামি করা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্তিকে "ষড়যন্ত্রমূলক" দাবি করে স্থানীয় বিএনপি ও একাংশ এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত ৪ জুলাই বিকেলে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পুরান পাড়ায় বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে শফি উল্লাহ গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত শফি উল্লাহ একই এলাকার মোক্তার আহমদের ছেলে।
এ ঘটনায় ৭ জুলাই নিহতের বড় ভাই ছিদ্দিক আহমদ বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের চাচা মৌলভী জহির আহমদ, তার পরিবারের সদস্যসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি কামাল আহমদ এবং তার দুই ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান ও আবু বক্করের নামও রয়েছে।
মামলায় বিএনপি নেতা ও তার দুই ছেলেকে আসামি করায় শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপি ও স্থানীয়দের একটি অংশ। তাদের দাবি, নিহতের পরিবারের সঙ্গে মূল বিরোধ ছিল জামায়াত নেতা মৌলভী জহির আহমদের পরিবারের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। অথচ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতা কামাল আহমদ ও তার দুই ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন এবং সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক, তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সোলতান আহমদ বিএ বলেন, "শফি উল্লাহ হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রকৃত খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। তবে মামলায় এমন কিছু ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা ঘটনায় সম্পৃক্ত নন বলে আমরা মনে করি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে।"
সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আলম বলেন, "বিএনপি নেতা কামাল আহমদ ও তার দুই ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধদের অব্যাহতি এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শুভ মিত্র তালুকদার বলেন, "মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরপেক্ষভাবেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন