শাহপরীর দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পাথরের ক্রস বাঁধ নির্মাণের দাবি
শাহপরীর দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পাথরের ক্রস বাঁধ নির্মাণের দাবি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কক্সবাজার আগমন উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।
শাহ পরীর দ্বীপ থেকে নজরুল ইসলামের আবেদন
আসসালামু আলাইকুম।
কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপের ৬৮ নম্বর ফোল্ডার পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পাথরের ক্রস বাঁধ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে ভাঙনপ্রবণ। সাগরের তীব্র ঢেউ, পূর্ণিমার জোয়ার এবং বর্ষা মৌসুমে পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রতিনিয়ত বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পশ্চিম পাড়া থেকে দক্ষিণ পাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্লক ধসে পড়েছে এবং অনেক ব্লক ঢাল থেকে সরে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ১৯৯১ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
আমাদের প্রধান দাবি:
- ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পাথরের ক্রস বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
- প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক বরাদ্দ দিতে হবে।
- পশ্চিম ও দক্ষিণ পাড়ের প্রায় ৩ কিলোমিটার ভাঙনপ্রবণ এলাকা স্থায়ীভাবে সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে।
- দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে শাহ পরীর দ্বীপের স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণ করতে হবে।
- শাহ পরীর দ্বীপে পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান
শাহ পরীর দ্বীপ শুধু একটি সীমান্তবর্তী জনপদ নয়—এর রয়েছে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের আদলে এখানে পরিকল্পিত আধুনিক বেড়িবাঁধ ও পর্যটন জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হলে একদিকে দ্বীপ ও জনপদ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে।
এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শাহ পরীর দ্বীপ দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি বিনীত আহ্বান—
শাহ পরীর দ্বীপকে রক্ষা করুন, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করুন এবং এই এলাকার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি পরিকল্পিত পর্যটন জোন গড়ে তুলুন।
শাহ পরীর দ্বীপ বাঁচলে—বাঁচবে জনপদ, রক্ষা পাবে মানুষের জীবন-জীবিকা।
বিনীত আবেদনকারী,
নজরুল ইসলাম
শাহ পরীর দ্বীপ, টেকনাফ, কক্সবাজার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন