ফলাফলের বিপর্যয়ের বছরেও হ্নীলা উম্মে সালমা মহিলা মাদ্রাসার শতভাগ পাসের অভাবনীয় সাফল্য
নিজস্ব প্রতিনিধি: চারদিকে যখন ফলাফলের বিপর্যয় আর পাসের হারের নিম্নমুখী গ্রাফ, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো ব্যতিক্রমধর্মী মহিলা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হ্নীলা উম্মে সালমা (রা.) ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসা। চলতি বছরের সাধারণ ফলাফলের নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও বিপর্যয়ের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের শতভাগ (১০০%) পাসের সোনালী ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখেছে। কঠোর শৃঙ্খলা, পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক নজরদারি, শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান আর শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীগণ।
চলতি বছর এই মাদ্রাসা থেকে মোট ৩২ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
মোট পরীক্ষার্থী: ৩২ জন
কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ: ৩২ জন
পাসের হার: ১০০%
জিপিএ-৫ (A+): ৪ জন
জিপিএ-৪ (A): ১৫ জন
জিপিএ-৩.৫ (A-): ৮ জন
জিপিএ-৩ (B): ৫ জন
মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা এনামুল হক মঞ্জুর বলেন, সারাদেশের সার্বিক ফলাফলের তুলনায় এই মাদ্রাসার ছাত্রীদের গড় জিপিএ এবং পাসের হার অত্যন্ত চমৎকার ও ঈর্ষণীয়। এই গৌরবময় মুহূর্তে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া (আলহামদুলিল্লাহ, ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ) জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে সাফল্য ধরে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। শত প্রতিকূলতার মাঝেও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে মাদ্রাসার সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ছাত্রীদের জন্য অনেক অনেক দোয়া ও শুভকামনা। ছাত্রীদের প্রতিটি বিষয়ে সুনিপুণভাবে প্রস্তুত করা, অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া এবং পরীক্ষার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত গাইডলাইন দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। বাড়িতে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের পরামর্শ মেনে চলার জন্য সকল অভিভাবককেও ধন্যবাদ জানাই। মাদ্রাসার সার্বিক শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কমিটির সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সচেতন মহল বলেন, এলাকার নারী শিক্ষা ও দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াতে হ্নীলা উম্মে সালমা (রা.) ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসা বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে এবং প্রতিষ্ঠানটি দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় নারীদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন