ইউএনওর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রুবায়েত হোসাইন
জেলেদের দোষ চাপানোর আগে জলসীমা চিহ্নিত করতে হবে।
টেকনাফের ইউএনও স্যার পেনোয়াকে বলেছেন, বাংলাদেশি জেলেরা যেন মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে না পড়ে, সেজন্য জেলেদের রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা হলো- আমাদের অনেক জেলেই জানেন না, বাংলাদেশের জলসীমা ঠিক কোথা থেকে শুরু হয়ে কোথায় শেষ।
জলসীমা আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত। কিন্তু জেলেদের জন্য দৃশ্যমানভাবে তা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা কোথায়? সমুদ্রে বা নাফ নদীতে এমন কোনো কার্যকর দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকলে একজন সাধারণ জেলে কীভাবে নিশ্চিত হবেন তিনি কোন দেশের জলসীমায় আছেন?
আরও উদ্বেগের বিষয়, সীমান্তের ওপারের অনেক বোট আগে পতাকা বহন করলেও এখন তা করছে না। ফলে পানির মধ্যে কোন বোট কোন দেশের- সেটিও অনেক সময় বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। এভাবে জলসীমাকে চিহ্নহীন ও অনিরাপদ রেখে শুধু জেলেদের ওপর দায় চাপানো কোনো সমাধান না।
প্রশ্ন হচ্ছে- জেলেদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশের নিজস্ব বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি জলসীমায় নিশ্চিত করতে না পারার ব্যর্থতা প্রশাসন কবে স্বীকার করবে?
স্পষ্টভাবে বলতে গেলে,
১. প্রথমে জেলেদের জন্য বাংলাদেশের জলসীমা দৃশ্যমানভাবে চিহ্নিত করতে হবে।
২. নাফ নদী ও সাগরসীমায় বাংলাদেশি আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সীমান্তবর্তী জলপথে বিদেশি বোট শনাক্তকরণ ও নজরদারি জোরদার করতে হবে।
৪. এসব মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পর জেলেদের রেজিস্ট্রেশন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
জেলেদের দায়িত্ব আছে- কিন্তু জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনেরও সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব।
শুধু জেলেদের ভুল খুঁজে দায় শেষ করা যাবে না।
জলসীমা চিহ্নিত করুন, জলসীমায় রাষ্ট্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করুন। তারপর জেলেদের জবাবদিহির আওতায় আনুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন