টেকনাফ থানার ওসিকে কনস্টেবলের মতোও লাগেনা -উপজেলা যুবদলের কাইয়ুম
টেকনাফের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে অপহরণ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন টেকনাফ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম। এ সময় তিনি টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তবে তার ওই বক্তব্যের বিষয়ে সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওসি সাইফুল ইসলাম।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে টেকনাফ উপজেলার ও পৌর বিএনপির কার্যালয় সংলগ্ন মাঠে পৌর বিএনপির আওতাধীন ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, টেকনাফে অপহরণ ও মাদকের বিস্তার নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রম যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি প্রশাসনে সৎ, দক্ষ ও সাহসী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অভিযোগ করেন, অপহরণের ঘটনার পর অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয় না। তিনি আরও বলেন, সরকার প্রণীত আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে মাদক কারবারি ও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় তিনি টেকনাফ থানার ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, "টেকনাফ থানার ওসি একজন কনস্টেবলের মতোও লাগেনা।" তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, "তার সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তিনি কেন এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন। আমি যতদিন টেকনাফে দায়িত্বে থাকব, ততদিন এখানকার মানুষের সেবায় কাজ করে যাব। আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।"
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফে অপহরণ ও মাদক নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদক উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করেন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো তুলে ধরতেই পারেন। তবে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ না করে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সমালোচনা করা অধিক গ্রহণযোগ্য।
আবার অনেকের মতে, টেকনাফের মানুষের মূল প্রত্যাশা রাজনৈতিক বক্তব্য বা পাল্টা বক্তব্য নয়; বরং অপহরণ, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি। তাদের ভাষ্য, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই টেকনাফে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন